জামায়াতের ‘উদার’ হওয়ার চেষ্টা কি কেবলই নির্বাচনী কৌশল না নীতিগত পরিবর্তন?
নির্বাচন ঘনিয়ে আসার মুখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাম্প্রতিক কিছু রাজনৈতিক পদক্ষেপ ও বক্তব্য নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠকের পর ‘শরিয়াহ আইন’ বাস্তবায়ন না করার যে তথ্য সামনে এসেছে, তা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।
গতকাল বুধবার খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি মার্থা দাস সাংবাদিকদের জানান, জামায়াত আমির আশ্বস্ত করেছেন যে তারা ক্ষমতায় গেলে দেশে শরিয়াহ আইন কায়েম করবেন না। তবে এ নিয়ে দলের অভ্যন্তরে কিছুটা অস্পষ্টতা দেখা গেছে। সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহছানুল মাহবুব যুবায়ের বিদ্যমান আইনি কাঠামোতে দেশ চালানোর কথা বললেও, কেন্দ্রীয় নেতা মতিউর রহমান আকন্দ দাবি করেছেন, আমির সরাসরি ‘শরিয়াহ আইন করব না’ এমনটি বলেননি, বরং জনগণের মতামতের ভিত্তিতে আইন প্রণয়নের কথা বলেছেন।
এবারের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী প্রথমবারের মতো দুজন হিন্দু প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন ধর্মীয় ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাথে ধারাবাহিক বৈঠক করছে দলটি। বিশ্লেষক সালাহউদ্দিন মুহাম্মদ বাবরের মতে, এটি জামায়াতের রাজনীতির একটি ‘গুণগত পরিবর্তন’ এবং বাংলাদেশের বাস্তবতায় মানুষের ধারণার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ার চেষ্টা।
১৯৪১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই দলটির মূল লক্ষ্য ছিল ‘আল্লাহ-প্রদত্ত ও রসুল-প্রদর্শিত ইসলাম কায়েম’। তবে নিবন্ধনের শর্ত পূরণে ২০১২ সালে তারা গঠনতন্ত্রে পরিবর্তন এনে ‘গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা’র কথা যুক্ত করে। সমালোচকরা প্রশ্ন তুলছেন, এই পরিবর্তনগুলো কি প্রকৃত আদর্শিক বিবর্তন নাকি কেবলই আইনি বাধা কাটানোর কৌশল?
অধ্যাপক সাঈদ ফেরদৌস ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাহবুব উল্লাহর মতে, নির্বাচনের আগে ভোটারদের আস্থা অর্জন এবং নিজেদের সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা মুছতেই জামায়াত এমন ‘সফট’ বা উদার অবস্থান নিচ্ছে। এটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হতে পারে।
অন্যদিকে কেউ কেউ মনে করছেন, জুলাই বিপ্লব পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে জামায়াত তাদের গত ৫০ বছরের প্রথাগত রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে আধুনিক ও সংস্কারমুখী রাজনীতির নতুন অধ্যায় শুরু করতে চাচ্ছে।
সংখ্যালঘু প্রশ্নে উদারতা দেখালেও জামায়াতের মনোনয়ন তালিকায় কোনো নারীর নাম না থাকা এবং নারীদের কর্মঘণ্টা কমানো নিয়ে আমিরের আগের মন্তব্য দলটির ‘উদার’ হওয়ার দাবিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
জামায়াতের এই অবস্থান পরিবর্তনের প্রভাব ২০২৬ সালের নির্বাচনে কতটা পড়বে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
তথ্য সূত্র: বিবিসি

