মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে কয়েক ঘণ্টার জন্য ইরান তার আকাশপথে বিমান চলাচল সীমিত করে দেয়। পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর রাতের দিকেই আবার আকাশসীমা খুলে দেওয়া হয় এবং ধীরে ধীরে বিমান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
বুধবার 5:15 PM ET (2215 GMT) সময় ইরান হঠাৎ এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করে। এতে করে নির্ধারিত বহু ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বিত হয়, আর কিছু আন্তর্জাতিক ফ্লাইটকে বিকল্প আকাশপথ ব্যবহার করে গন্তব্যে যেতে হয়। সে সময় শুধুমাত্র বিশেষ অনুমোদনপ্রাপ্ত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচলের সুযোগ পায়।
প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর 10:00 PM ET (0300 GMT) সময় এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। এরপর ইরানের কয়েকটি বেসরকারি ও জাতীয় এয়ারলাইন্স প্রথম ধাপে আকাশপথ ব্যবহার শুরু করে। বিমান চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর তথ্যে দেখা যায়, অল্প সময়ের মধ্যেই ইরানের আকাশে আবার বিমান চলাচলের গতি বাড়তে থাকে। অথচ নিষেধাজ্ঞার আগের একই সময়ে দেশটির আকাশে স্বাভাবিকভাবেই বহু বিমান চলাচল করছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা থেকেই এই সতর্কতামূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলন পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।
এদিকে নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি সামরিক স্থাপনা থেকে যুক্তরাষ্ট্র সীমিত আকারে জনবল সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগে ইরানের পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল—যুক্তরাষ্ট্র কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিলে অঞ্চলজুড়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সময়ে বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কা বেড়ে যাওয়ায় বেসামরিক বিমান চলাচল আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

