দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসন শেষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান বীরের বেশে দেশে ফিরে এসেছেন। শুক্রবার (২৫ ডিসেম্বর) সকালে তিনি লন্ডন থেকে ঢাকায় পৌঁছালে রাজধানীজুড়ে দেখা যায় অভূতপূর্ব জনসমাগম। বিমানবন্দর সড়ক থেকে ৩০০ ফিট এলাকা পর্যন্ত লাখো মানুষের ঢল নামে, যা রাজধানী ঢাকাকে পরিণত করে জনতার সাগরে।
এক–এগারো পরবর্তী সরকার এবং পরবর্তীতে স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তারেক রহমানের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা, অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র চালানো হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল তাকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করা এবং রাজনীতি থেকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়া। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ সেই অপচেষ্টা সফল হতে দেয়নি—আজকের এই গণজোয়ার তারই প্রমাণ।

তারেক রহমানের আগমন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ছিল সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে। পুলিশ, র্যাব, সেনাবাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের মোতায়েন করা হয় রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে। তবে জনতার আবেগ, স্লোগান ও শান্তিপূর্ণ উপস্থিতিতে ঢাকাজুড়ে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
সমাবেশে ভাষণ দিতে গিয়ে তারেক রহমান বলেন,
“প্রিয় বাংলাদেশ, প্রিয় ভাই ও বোনেরা—মার্টিন লুথার কিং বলেছিলেন, ‘I HAVE A DREAM’। আজ আমি বলতে চাই, I HAVE A PLAN. FOR THE PEOPLE OF MY COUNTRY, FOR MY COUNTRY.।”
তিনি ধর্ম, অঞ্চল ও মতভেদ ভুলে দেশ গঠনে ঐক্যের আহ্বান জানান। তার বক্তব্যে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার অঙ্গীকার স্পষ্টভাবে উঠে আসে।
সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান আশির দশকের শেষ দিকে রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ২০০১–২০০৬ মেয়াদে বিএনপি সরকারের সময় তিনি দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এক–এগারো সরকার ও পরবর্তী আওয়ামী লীগ শাসনামলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে তাকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়।

২০০৮ সাল থেকে নির্বাসনে থেকেও তিনি বিএনপির নেতৃত্ব দিয়ে গেছেন। ২০১৮ সালে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর লন্ডন থেকেই তিনি দল পরিচালনা করেন। তার নেতৃত্বেই বিএনপি দমন-পীড়নের মধ্যেও সংগঠিত শক্তি হিসেবে টিকে থাকে।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দেওয়া রাজনৈতিক রায়গুলো বাতিল হয়, যা তার দেশে ফেরার পথ সুগম করে।
বর্তমানে বাংলাদেশ গভীর রাজনৈতিক রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ নির্বাচনের বাইরে থাকায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির গণভোট ঘিরে রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন জরিপে বিএনপি স্পষ্টভাবে এগিয়ে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন বিএনপিকে নির্বাচনী মাঠে আরও শক্তিশালী করবে। সমর্থকদের কাছে তিনি কেবল একজন নেতা নন—তিনি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রতীক।
ঢাকার রাজপথে লাখো মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে দিয়েছে, সকল ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দিয়ে জনগণ আজও তারেক রহমানের পাশেই রয়েছে।
ডিজিএন/এফএ

