ছুটির দিনের সকালে রাজধানীর উত্তরায় একটি আবাসিক ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ছয় জনে দাঁড়িয়েছে। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর রোডের একটি ছয়তলা আবাসিক ভবনের দ্বিতীয় তলায় আগুন লাগে।
ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৭টা ৫৪ মিনিটে আগুনের খবর পেয়ে উত্তরা ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে রওনা হয় এবং ৭টা ৫৮ মিনিটে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর সকাল ৮টা ২৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয় এবং সকাল ১০টার দিকে আগুন সম্পূর্ণ নির্বাপণ করা সম্ভব হয়।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, ঘটনাস্থল থেকে মোট ১৬ জনকে উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। উত্তরা পশ্চিম থানার ওসি রফিক আহমেদ জানান, নিহতরা দুটি পরিবারের সদস্য, যারা ভবনের পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলার দুটি ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন।
নিহতদের ভেতরে তিন জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে তারা হলেন, চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চিওড়া কাজী বাড়ির নিবাসী কাজী খোরশেদ আলম (বদু) এর একমাত্র ছেলে কাজী ফজলে রাব্বি রিজভী (৩৮), তার স্ত্রী আফরোজা আক্তার সুবর্ণা (৩৭) এবং তাদের দুই বছর বয়সী ছেলে কাজী ফাইয়াজ রিশান। এ ঘটনায় কাজী খোরশেদ আলম একসঙ্গে তার ছেলে, পুত্রবধূ ও একমাত্র নাতিকে হারিয়েছেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, কাজী ফজলে রাব্বি রিজভী আরেক সন্তান ওই সময় উত্তরায় নানীর বাসায় অবস্থান করায় সে প্রাণে বেঁচে যায়।
কাজী ফজলে রাব্বি রিজভী পৈতৃক নিবাস কুমিল্লা জেলার, চৌদ্দগ্রাম উপজেলায়। কর্মসূত্রে ঢাকায় আসার আগে তিনি কুমিল্লা শহরের নানুয়া দিঘিরপাড় এলাকায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন। তার মা ফেরদৌস আরা কুমিল্লা শহরের নবাব ফয়জুন্নেসা স্কুলের একজন শিক্ষিকা ছিলেন।
কাজী ফজলে রাব্বি রিজভী এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালসে কর্মরত ছিলেন এবং তার স্ত্রী সুবর্ণা স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসে চাকরি করতেন।
সুবর্ণাকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। রাব্বির মরদেহ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং শিশু রিশানের মরদেহ ঢাকা স্পেশালাইজড হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
চিকিৎসকদের বরাতে জানা গেছে, নিহতদের শরীরে দগ্ধ হওয়ার কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ঘন ধোঁয়ার কারণে অক্সিজেনের অভাবে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ডিজিএন/এফএ

