নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলায় বৃহস্পতিবার এক হৃদয়বিদারক ঘটনার জন্ম দেয় একটি পরিবারিক বিপর্যয়। দুপুরের দিকে মাহমুদপুর ব্রিজ এলাকা থেকে ১৬ মাস বয়সী এক কন্যাশিশুকে আত্রাই নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। ঘটনার কিছুক্ষণ পর শিশুটির মা নিজেই থানায় গিয়ে বিষয়টি জানিয়ে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এক নারী পত্নীতলা থানায় উপস্থিত হয়ে জানান যে তিনি তার শিশু সন্তানকে নদীতে নিক্ষেপ করেছেন এবং তাকে গ্রেপ্তার করার অনুরোধ করেন। বিষয়টি শুনে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং স্থানীয়দের সহায়তায় নদী থেকে শিশুটিকে জীবিত উদ্ধার করে। স্থানীয় খমির শেখ নামের এক ব্যক্তি শিশুটিকে প্রথমে পানি থেকে তুলে এনে প্রাথমিকভাবে শুশ্রুষা করেন। পরে পুলিশ শিশুটিকে হেফাজতে নিয়ে দ্রুত পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে, শিশুটি বর্তমানে আশঙ্কামুক্ত রয়েছে এবং চিকিৎসাধীন। শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিশুটির মা দীর্ঘদিন ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। পরিবারের দাবি, মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণেই এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। পরিবার জানিয়েছে, শিশুটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মায়ের মানসিক চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পত্নীতলা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম জানান, ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এবং তারা নিশ্চিত করেন যে ওই নারী সন্তানকে সঙ্গে নিয়েই বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার কারণেই শিশুটিকে প্রাণে বাঁচানো সম্ভব হয়েছে।এ ঘটনায় নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম নিজে হাসপাতালে গিয়ে শিশুটিকে দেখেন। তিনি বলেন, “যিনি শিশুটিকে উদ্ধার করেছেন, তার মানবিক উদ্যোগ প্রশংসার দাবিদার।”
পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্ধারকারীকে আর্থিক পুরস্কার দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।পুলিশ জানিয়েছে, পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং শিশুটির ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও মায়ের চিকিৎসা—দু’টি বিষয়ই সমন্বয়ের মাধ্যমে দেখা হবে।
ডিজিএন/এফএ

