ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সমীকরণে বড় ধরণের রদবদল! আসন বণ্টন নিয়ে দীর্ঘ দর কষাকষির পর জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ইসলামি জোট ছাড়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে দ্বিতীয় বৃহত্তম শরিক দল চরমোনাই পীর মুফতি রেজাউল করিমের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। আজই আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিচ্ছেদের ঘোষণা আসার কথা রয়েছে।
ভেতরের খবর অনুযায়ী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোটে থাকার শর্ত হিসেবে কমপক্ষে ৮০টি আসন দাবি করেছিল। জামায়াত ও অন্যান্য শরিকরা ৪৫টি আসন এবং আরও কয়েকটি আসন উন্মুক্ত রাখার প্রস্তাব দিলেও ৮০ আসনের দাবিতে অনড় থাকেন চরমোনাই পীর। এই অনড় অবস্থানের কারণেই ১১ দলীয় এই জোট এখন ১০ দলীয় জোটে পরিণত হতে যাচ্ছে।
খেলাফত মজলিসের নেতা মাওলানা মামুনুল হক নিজে চরমোনাই পীরের সঙ্গে যোগাযোগ করে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হন। জামায়াতের পক্ষে ৮০টি আসন ছাড়া সম্ভব ছিল না, কারণ এতে দলের নিজস্ব শক্তিশালী আসনগুলো হাতছাড়া হওয়ার পাশাপাশি অন্য শরিকদের থেকেও আসন বাড়ানোর চাপ আসার ঝুঁকি তৈরি হতো।
জোটের সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ায় ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা এখন ২৬৬টি আসনে নিজেদের দলীয় প্রতীক ‘হাতপাখা’ নিয়ে এককভাবে নির্বাচনে লড়বেন বলে জানা গেছে।
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম জানিয়েছেন, আজ বৃহস্পতিবার দুপুরের মধ্যে বাকি শরিকদের নিয়ে শীর্ষ নেতারা বৈঠকে বসবেন। এরপর সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জোটের পরবর্তী রূপরেখা জানানো হবে। ইসলামী আন্দোলন চলে গেলেও বাকি ১০টি দল ঐক্যবদ্ধ থাকার ব্যাপারে একমত হয়েছে।
জানা গেছে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জোটে যোগ দেওয়ার পর থেকেই ইসলামী আন্দোলনের অসন্তোষ বাড়তে থাকে। দলটি দাবি করে, অন্তত ১৪৩টি আসনে তাদের বিজয়ী হওয়ার মতো জনসমর্থন আছে। মূলত এনসিপি ও জামায়াতের প্রভাবশালী নেতাদের বেশ কিছু আসন দাবি করা নিয়েই দ্বন্দ্বের চূড়ান্ত রূপ নেয়।
নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে ইসলামি দলগুলোর এই বিভক্তি ভোটের মাঠে কী প্রভাব ফেলে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

